১. ব্যক্তির অভেদ
যে ধর্মের আশ্রয়ব্যক্তি এক, সেই ধর্ম জাতি নয়।
আকাশ, দিক, কাল ন্যায়–বৈশেষিক মতে এক।
তাই আকাশত্ব, দিকত্ব, কালত্ব একব্যক্তি মাত্রবৃত্তি বলে জাতি নয়। এগুলি উপাধি।
২. তুল্যত্ব
যদি দুটি ধর্মের অধিকরণ এক হয়, তাহলে ঐ দুটি ধর্মকেই জাতি বলা হয় না। যেমন—ঘটত্ব ও কলসত্ব একই অধিকরণে থাকায় ঐ দুটি ভিন্ন জাতি নয়। তুল্যত্ব জাতির বাধক নয়, কিন্তু জাতিভেদের বাধক।
৩. সঙ্কর
যদি দুটি ধর্ম পরস্পরের অভাবের অধিকরণে থাকে এবং এক অধিকরণেও থাকে, তাহলে সেখানে সংকর হয়। যে দুটি ধর্মের মধ্যে সংকর হয়, তারা জাতি হয় না।
যেমন—ভূতত্ব ও মূর্তত্ব জাতি নয়, তারা উপাধি।ভূতত্ব ও মূর্তত্ব পৃথিবী, জল, বায়ু, তেজ—এই চারটিতে একত্রে থাকে এবং পরস্পরের অভাবের অধিকরণেও থাকে।
মূর্তত্বের অভাবের অধিকরণ আকাশে ভূতত্ব থাকে।আবার ভূতত্বের অভাবের অধিকরণে মূর্তত্ব থাকে।
৪. অনবস্থা
ন্যায়–বৈশেষিক মতে, জাতিতে কোন জাতি থাকে না।জাতিতে জাতি স্বীকার করলে অনবস্থা হয়।
ঘটত্ব জাতি, পটত্ব জাতি—এরূপ অনুপাত প্রতীতি ঘটত্ব ও পটত্ব জাতিতে জাতিত্ব বলে জাতি স্বীকার করলে অনবস্থা হয়।
এই অনবস্থা দোষ পরিহারের জন্য ন্যায়–বৈশেষিকেরা জাতিকে জাতির আশ্রয় বলে স্বীকার করেন না।
৫. রূপহানি
বৈশেষিক মতে, বিশেষ্য বিশেষের অনুগত ধর্ম হলেও জাতি নয়। বিশেষ স্বতোব্যাবর্তক। বিশেষত্বকে জাতি বলে স্বীকার করলে বিশেষের স্বতোব্যাবর্তকত্ব রূপের হানি হয়।
৬. অসম্বন্ধ
সমবায়ত্ব এবং অভাবত্ব সমবায় ও অভাবের অনুগত ধর্ম হলেও জাতি নয়। কারণ সমবায় এবং অভাব কোন পদার্থে সমবায় সম্বন্ধে থাকে না।
ন্যায়–বৈশেষিক মতে, এই ছয়টি জাতিবাধকের কোন একটি না থাকলে নিত্য ও অনেক সমবেত ধর্মকে জাতি বলা হয়। জাতি দ্রব্য, গুণ, কর্ম—এই তিনটি পদার্থে থাকে। সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাবে জাতি থাকে না।
Leave a Reply